বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ

বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ

ঋণ খেলাপি হওয়া চট্টগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে তার ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।

 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

 

এর আগে গত ১৫ জুন শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৩০ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।

 

আসলাম চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে অংশ নেন। ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম শুনানি করেন।এর আগে, গত ২০ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা নিয়ে আপিল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালত বন্ধু) হিসেবে মতামত দিতে দুজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে মনোনয়ন দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

 

তারা হলেন এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগী। একই সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর আপিল আবেদন শুনানির জন্য সোমবার দিন ঠিক করেছিলেন আপিল বিভাগ।

 

এরও আগে গত ৯ জুন আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে ব্যাংকটির করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়।

 

গত ৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।

 

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে। ইসির এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করে অভিযোগকারী পক্ষ। পরে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।

 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হাইকোর্টের আদেশে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী প্রার্থিতা ফিরে পান।

 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আসলাম চৌধুরী অংশ নেন। নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও তার ফলাফল প্রকাশ উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

 

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে লিভ টু আপিল করেন জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী। সেই আবেদন গত ৩ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।

 

আদেশে বলা হয়, যদি তিনি (আসলাম চৌধুরী) নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সফল হন তবে সংশ্লিষ্ট আসনে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ এ সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।

 

লিভ টু আপিল মঞ্জুর হওয়ার পর জামায়াতের প্রার্থী গত ৩১ মার্চ পৃথক আপিল আবেদন করেন। এরপর ২৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ ও নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন ঠিক করে পাঠান।

 

এর মধ্যে বেশ কয়েকবার আবেদনটি শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো শুনানি হয়।

 


গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুতে শোকাহত লিওনেল মেসি যখন পরিবারের পাশে থাকতে আর্জেন্টিনায়, তখন মাঠে নেমে বন্ধুর পাশে দাঁড়ালেন রদ্রিগো দে পল। নিজের জার্সির নিচে মেসির ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নেমেছিলেন ইন্টার মায়ামির এই আর্জেন্টাইন তারকা। গোল করেই সেই জার্সি প্রকাশ করেন এবং আবেগঘনভাবে মেসির প্রয়াত বাবাকে শ্রদ্ধা জানান।

 

শনিবারের দিনটি মেসি পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ৬৮ বছর বয়সে মারা গেছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের পাশে থাকতে রোজারিওতে ফিরে যান মেসি।

 

এ কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মনতেরের বিপক্ষে ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির অনুপস্থিতিতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হয় অন্যদের। সেই দায়িত্বের অন্যতম একজন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু দে পল।

 

ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল ইন্টার মায়ামি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে থেকে বজ্রগতির এক শটে দারুণ গোল করে দলকে এগিয়ে দেন দে পল।

 

গোল করার পরই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন তিনি। তখন প্রকাশ পায় আসল চমক। নিজের জার্সির নিচে তিনি পরে ছিলেন মেসির বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সি। গোল করার পর সেই জার্সি দেখিয়ে মেসি ও তাঁর পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও সমবেদনা জানান দে পল।

 

মেসির কঠিন সময়ে তাঁর পাশে থাকার এটি ছিল দে পলের আবেগঘন এক বার্তা। মাঠের বাইরেও দুজনের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে শুরু করে ইন্টার মায়ামি—দুই জায়গাতেই মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দে পলের।

 

মেসি, লুইস সুয়ারেজ ও জার্মান বেরতেরামে না থাকায় মনতেরের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির জন্য ম্যাচটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ৩২ বছর বয়সী দে পল সামনে থেকে দায়িত্ব নেন। গোল করে দলকে যেমন এগিয়ে দেন, তেমনি বন্ধুর পরিবারের কঠিন সময়েও পাশে থাকার বার্তা দেন।

 

মেসির জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর ফুটবল বিশ্বের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। দে পলের এই শ্রদ্ধা যেন সেই শোকের মধ্যেই বন্ধুত্বের আরেকটি গভীর উদাহরণ হয়ে থাকল।

 

মেসি যখন রোজারিওতে বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে পরিবারের সঙ্গে, তখন তাঁর হয়ে মাঠে লড়লেন দে পল। আর গোলের পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখিয়ে জানিয়ে দিলেন—কঠিন সময়ে বন্ধুকে তিনি একা হতে দেবেন না।

মেসির জার্সি পরে মাঠে নেমেছিলেন দে পল, গোল করে উৎসর্গ করলেন মেসির প্রয়াত বাবাকে

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা ছিলেন নেইমার জুনিয়র। জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া এই তারকা এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কোপা সুদামেরিকানায় সান্তোসের জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ব্রাজিলের জার্সিতে আর মাঠে নামার ইচ্ছা নেই।

 

ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেইমার বলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার পথচলা শেষ হয়েছে। দেশের জার্সির জন্য নিজের সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

নেইমারের ভাষায়, ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। তবে এখন তিনি মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। কিন্তু শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় দলকে। সেই ম্যাচে শেষদিকে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন নেইমার। পরে জানা যায়, সেটিই ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেক হয় নেইমারের। এরপর ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন ৮০টি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫৯টি গোল। দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করলেও বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল তার।

 

জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবলে নিজের যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নেইমার। ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে সান্তোসের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। এই জয়ের ফলে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিলের ক্লাবটি। পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইকুয়েডরের মাকারা।

 

এদিকে সম্প্রতি সান্তোস ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে নেইমারের আচরণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিও নাকচ করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, চ্যাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তিনি তরুণ দুই ফুটবলার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সমালোচনা করেন এবং তাদের নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন।

 

তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। তার দাবি, ম্যাচের পর তিনি শুধু দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলেছেন এবং সহজে পয়েন্ট হারানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অধিনায়ক হিসেবে দলের ভুলগুলো তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই ধরনের বক্তব্য অন্য জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়রাও দিয়েছিলেন বলে জানান ব্রাজিলিয়ান এই তারকা।

ব্রাজিল অধ্যায়ের ইতি টানলেন নেইমার!

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুম থেকে মাঠে যাওয়ার পথে দেয়া অনুপ্রেরণামূলক ভাষণের একটি ভিডিও প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর ভিডিওটির একটি অংশ ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে মেসির বলা ‘সবকিছু ভুলে যাও’ বাক্যটির গোপন অর্থ খুঁজতে শুরু করেছিলেন অনেকে। তবে সম্প্রতি পুরো ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর সেই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন ব্যাখ্যাও সামনে এসেছে।

 

মাঠে নামার আগে সতীর্থদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘চলো সবাই, শান্ত থাকো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন শান্ত থাকি। শুধু খেলায় মনোযোগ দাও। সবকিছু ভুলে যাও। শুধু খেলো, খেলায় মনোযোগ দাও। চলো।’

 

তার এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল চাপমুক্ত থেকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলা।

 

মাঠে প্রবেশের সময় আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু কথোপকথনও শোনা যায়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজকে উদ্দেশ করে ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো বলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণে কীভাবে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং লামিন ইয়ামালকে সামলানোর পরিকল্পনা নিয়ে।

 

লিসান্দ্রো ‘লিচা’ মার্টিনেজ দিবুকে সতর্ক করে বলেন, প্রতিপক্ষ ভেতরে ঢুকে শট নেয়ার চেষ্টা করবে, তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পরে লিচা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোকে বলেন, ‘পুরো ম্যাচ জুড়ে তাকে আটকে রাখবে।’ দিবুকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি বল নিশ্চিতভাবে ধরবে, মানসিকভাবে শক্ত থাকো।’

 

এ সময় মেসি আবারও ডিফেন্ডারদের বলেন, প্রতিপক্ষ আক্রমণে এলে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজ যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামনে উঠে না যান। সবশেষে কুতি রোমেরো দিবুকে বলেন, ‘আজ তোমার দিন।’ জবাবে দিবুর আত্মবিশ্বাসী উত্তর ছিল, ‘আজ আমার দিন। আজ ইতিহাসে লেখা থাকবে।’

 

এরপর দুই দল মাঠে প্রবেশ করে এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। তবে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে তীব্র লড়াই ও বাকবিনিময় দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে।

 

ভিডিওটি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। আপনারা কী নিয়ে বলছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো ধারণা নেই।’

ফাইনালের আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী হচ্ছিল? স্পষ্ট করলো দেশটির গণমাধ্যম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে স্পেন। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন আলোচনার তুঙ্গে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেলার একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, এই চেলসি তারকা একটি সাধারণ সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে বিশ্বকাপ ট্রফির মতো দেখতে একটি বস্তু নিয়ে স্টেডিয়াম ছাড়ছেন। অত্যন্ত মূল্যবান এই ট্রফিটি এভাবে ‘ময়লা ফেলার ব্যাগে’ বহনের দৃশ্য দেখে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খেলোয়াড়েরা যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরছিলেন, তখন ক্যামেরায় ধরা পড়ে কুকুরেলার এই অদ্ভুত দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি শপিং ব্যাগের ভেতর সোনালী রঙের ট্রফিটি নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন তিনি।

 

বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি এমন সাদামাটাভাবে বহন করতে দেখে নেটিজেন ও সাংবাদিকেরা বিষ্ময় প্রকাশ করেন। তবে এই রহস্যের সমাধান হয়েছে খুব দ্রুতই। জানা গেছে, কুকুরেলার ব্যাগে থাকা বস্তুটি আসল ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ছিল না; বরং সেটি ছিল লেগো (LEGO) দিয়ে তৈরি ট্রফির একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি বা খেলনা। শখের বশে তৈরি করা এই লেগো ট্রফিটিই তিনি প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

কুকুরেয়ার প্লাস্টিকের ব্যাগে ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’! আসল রহস্য কী?

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়মকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে মৃত্যুদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

 

সোমবার (২০ জুলাই) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চুয়াডাঙ্গার বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোক্তাগীর আলম আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

 

আসামি আবুল হোসেনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী গয়েশপুর গ্রামে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের মরিয়ম খাতুন কয়েকজন শিশুকে সাথে নিয়ে মাঠে শাক তুলতে যায়। এ সময় শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে আসামী মরিয়মকে একটি ভুট্টাখেতের ভেতর নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ শেষে হত্যা করে।

 

এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযুক্ত আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু আদালতের পিপি এমএম শাহজাহান মুকুল জানান, ‘৩১জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন আদালত।’ আদালতের রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তষ্টি প্রকাশ করেন। এমন বিচার অব্যাহত থাকলে দেশে ধর্ষণ হত্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

আজ ১৪ আগস্ট। ২০২৩ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও বহুল আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ধর্মীয় বক্তা হিসেবে জনপ্রিয়তা এবং ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার—সব মিলিয়ে সাঈদী ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

শেষ সময়ের চিকিৎসা

২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।

পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনে সাঈদী

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ধর্মীয় বক্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁর ওয়াজ ও ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এর পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে দলটির নায়েবে আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

ধর্মীয় বক্তা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও বিচার

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার হয়।

পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

এই বিচার ও রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে সাঈদীকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবিভাজন।

মৃত্যুর পর প্রতিক্রিয়া

সাঈদীর মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের মধ্যে শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্মরণ করে দোয়া ও অন্যান্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন মহল থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়।

ফলে তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত থাকে।

মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ছিল একই সঙ্গে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ধর্মীয় বক্তা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন ব্যাপক ছিল, তেমনি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাকে ঘিরে ছিল তীব্র বিতর্ক।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর অনুসারীরা তাঁকে শ্রদ্ধা ও দোয়ার মাধ্যমে স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে।

ইতিহাসের কোনো আলোচিত ব্যক্তিত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি আদালতের নথি, ঐতিহাসিক তথ্য ও যাচাইযোগ্য সূত্রকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সাঈদীর জীবন ও রাজনৈতিক অধ্যায়ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এমনই একটি আলোচিত অধ্যায়, যা নিয়ে আজও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুবার্ষিকী: আলোচিত এক অধ্যায়ের স্মরণ

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড

 

আতিকুর রহমান আশিক , মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

 

মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করার দায়ে লাভলী আক্তার নামে এক নারীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের বিরুদ্ধে আদালতে এ রায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক দোলন বিশ্বাস এ রায় দেন।

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে স্বামী আরিফুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় মামলা করেন স্ত্রী লাভলী আক্তার। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২২ সালের ১৫ এপ্রিল আরিফুল পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাকে মারধর করেন। পরে আরও একটি ঘটনায় যৌতুক দাবির অভিযোগ আনা হয়।

তবে অভিযোগে উল্লেখিত দুই ঘটনার সময়ই আরিফুল ইসলাম বিদেশে ছিলেন। তিনি ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল চাকরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান এবং দেশে ফেরেন ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

 

গত ২৭ জুলাই সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে পিটিশন দাখিল করেন।

 

এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদী লাভলী আক্তারকে যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৬ ধারায় ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।

 

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কোহিনুর বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামিকে খালাস দেন। পরে মিথ্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি বিবেচনায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৬ ধারায় বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আদালতে আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত বাদীকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

 

বাদী পক্ষের আইনজীবী সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডের লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।

 

মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা মামলা করে কাউকে হয়রানি করলে মামলার বাদীকেও যে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, এই রায় তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এ ধরনের রায় হলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার দায়ে স্ত্রীকে ১০ দিনের কারাদন্ড 

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ

 

রাকিবুল ইসলাম রঞ্জু:

 

১৩ আগষ্ট ২০২৬’ তারিখ সকাল ১১ টায় গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের উদ্যোগে বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ১৬ আগষ্ট গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

 

সংবাদ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মঞ্চের সদস্য সচিব শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্চের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার, তপন সাহা, কামরুজ্জামান ফিরোজ, আবু কালাম, মিজানুর রহমান শিকদার, সাজিয়া রহমান, মাহমুদা হোসেন মিলি প্রমূখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকার পে-স্কেল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে চরম বৈষম্যে সৃষ্টি করেছেন। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র কতখানি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে তার প্রমাণ হচ্ছে পে-স্কেল। ঘোষিত পে-স্কেলে একজন সচিব এর বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অপর দিকে একজন অফিস সহকারী (পিয়ন) তার বেতন ধরা হয়েছে ৪১ হাজার টাকা। অথচ যারা উৎপাদন করে সেই শ্রমিক বিশেষকরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরী হচ্ছে ১২ হাজার ৫ শত টাকা। এর মধ্য দিয়ে সরকার সমাজে প্রবল বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এই বৈষম্য দুর করতে শ্রমিকের জন্য জাতীয় নিম্নতম মজুরী ৩০ হাজার টাকা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করে শ্রমিকদের বাঁচার মত মজুরী ঘোষণা করতে হবে। বর্তমান উর্দ্ধমূখী বাজার ব্যবস্থায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা যে মজুরী পান তা দিয়ে তাদের জীবন চলেনা। ফলে শিল্পের শ্রমক অসন্তষ লেগেই রয়েছে। শিল্পের উৎপাদনের সুষ্ঠ পরিবেশ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরী বৃদ্ধির বিকল্প নাই। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বিগত ২০২৩ সালের ঘোষিত মজুরী আগামী নভেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। ডিসেম্বর ২০২৬ সাল থেকে নতুন মজুরী কার্যকর হওয়ার কথা। এখন মাত্র চার মাস সময় আছে সরকার কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরী বোর্ড ঘোষণা করতে হবে এবং বোর্ডের গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের মধ্য থেকে নির্বাচিত করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখিত দাবিতে আগামী ১৬ আগষ্ট মাননীয় শ্রমমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে। একই সাথে উক্ত স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে অবগতির জন্য পাঠানো হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড ঘোষণার দাবিতে মাননীয় শ্রম মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হবে

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

 

শাহ্ পারভেজ সংগ্রাম,গাইবান্ধা প্রতিনিধি

গাইবান্ধায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাবের উদ্যোগে মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে সিপিসি-৩ গাইবান্ধা র‌্যাব-১৩ ক্যাম্পের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এই সচেতনতা মুলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিপিসি-৩ ও র‌্যাব-১৩ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ রেজাউল হকের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারুল মান্নান । এছাড়াও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, রেড ক্রিসেন্ট ও রোভার স্কাউটসের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দেড় ঘন্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেয়।

 

মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধি সহ সকল পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে বিপদগামী মাদকাসক্ত তরুণদের আলোর পথে ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

 

অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়, সরকারের নির্দেশনায় মাদক ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাসহ মাদক ও সামাজিক অপরাধ নির্মুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়।

 

সভা শেষে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহনকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলার সামগ্রী বিতরন করা হয়।

গাইবান্ধায় অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার, সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আত্মসমর্পন করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। আজবৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিশা। শুনানি নিয়ে আদালত জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক।গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছিল।

 

জামিন পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তানজিন তিশা বললেন, ২৭ হাজার টাকার একটা শাড়ি নাকি আত্মসাৎ করেছি। আমার ১৫ বছরের একটা ক্যারিয়ার। এটা কারোর কাছে কাম্য নয়, একটা শাড়ির জন্য আদালতে আসবো। আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই আদালতে এসেছি। তবে মামলায় অনেকগুলো মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণা এমন কিছুই করিনি।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটা কথা বলতে চাই, মামলার বাদী একজন নারী। তিনি নিজের স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে আমার সঙ্গে এটা (মামলা) করেছে। অনেক ধরনের হুমকি দিয়েছে। আগামীতে সবকিছু তুলে ধরব। আমার নামে যে মামলা করেছে তাকে চিনি না।

 

এদিন তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন৷ এরপর তার আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে জামিন পেয়ে তিনি আদালত প্রাঙ্গন ছাড়েন। এসময় উৎসুক জনতা তাকে দেখতে ভীড় জমান।

 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তানজিন তিশা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে অনলাইন ফ্যাশন পেজের এডমিন আমিনুল ইসলাম প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। ওই সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিবি পুলিশকে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তানজিল তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেন পুলিশ। সেই প্রতিবেদনের আদালত আমলে গ্রহণ করে গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তানজিন তিশা

পটুয়াখালীর বাউফলের নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর রায়সাহেব এলাকায় হামলার ঘটনার জামায়াত নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, হামলার শিকার বিএনপি সমর্থক মাঈনুদ্দিন (২৫) বাদি হয়ে বাউফল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

 

বুধবার (১২আগস্ট) দুপুরের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দ্রুতই তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

গ্রেফতার আসামিরা হলেন— চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি সাইফুল শরীফ (৪০), ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি সোহাগ হাওলাদার (২৮) ও জামায়াত সমর্থক আল-আমিন (২৮)।

 

পুলিশ জানায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব এলাকার লালচরে মহিষের পাল জেলেদের মাছ ধরার চাই নষ্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের মিমাংসার জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে রায় সাহেব এলাকায় সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠকে মহিষ খামারিদের পক্ষে অবস্থান নেয় জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে, জেলেদের পক্ষে অবস্থান নেন বিএনপির সমর্থক ভুক্তভোগী মাইনুদ্দিন।

 

সালিশ চলাকালে দু’পক্ষই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জামায়াত নেতা-কর্মীদের হামলা চালিয়ে মাঈনুদ্দিন, শাহিন, সোহেল রাড়ি, মামুন, ইউনুস, মমতাজ ও রানী বেগমসহ ৭ জন আহত করেন।

 

এদের মধ্যে গুরুতর আহত শাহিন রাড়ি ও মাঈনুদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

এ বিষয়ে বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার মামলায় তিন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

বাউফলে বিএনপি সমর্থকদের কু/পিয়ে জখম, জামায়াতের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

চাঁদপুরে সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে জেলার রেলওয়ে স্টেশনের ছায়াবানী রেল ক্রসিংয়ের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

 

নিহত তায়েবা আক্তার (১৪) চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদী মাদরাসা রোড এলাকার বিষ্ণুদী ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবার নাম তাজুল ইসলাম ও মা আমেনা বেগম।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রেনটি ছায়াবানী রেল ক্রসিং পার হয়ে পূর্ব পাশে পৌঁছালে তায়েবা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

 

চাঁদপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব কর বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার অভিভাবকেরা থানায় এসেছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ‘আমাদের দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন আমাদের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আমরা তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ তারিখে নির্বাচিত করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

 

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এবং সমর্থক ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করবেন।

 

তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোট থেকে কর্নেল অলি আহমদও রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন। তার পক্ষ থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।ফলে আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদে কে আসবেন— এ প্রশ্নের উত্তরে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমাদের আর কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে বলার নেই।’

‘আমরা মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করতে চাই’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার মার্কিন কোম্পানিগুলোর পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানায়। তাদের সফলতার জন্য সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসে দেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, তাদের সফর বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেবে।

 

নিজের ব্যবসায়ী জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনিও ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যবসা বিকশিত হওয়ার জন্য সঠিক নীতি ও পরিবেশ প্রয়োজন—এটা তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাস বয়সি, ভবিষ্যৎমুখী সরকার চায় মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই। আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত করতে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং এটি আপনাদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত অঙ্গীকার।’

মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মেহেরপুরের গাংনীতে এসএসসি পরীক্ষায় টানা দুবার ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর রামিদুজ্জামান টুটুল (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যদের বকাঝকার পর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

 

রামিদুজ্জামান টুটুল গাংনী উপজেলার কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ার মিন্টু হোসেনের ছেলে এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাখুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

 

টুটুলের দাদা আনিচ উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন মাঠে যাওয়ার আগে টুটুলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি। আজও সকাল ছয়টার দিকে ডাকতে গিয়ে তাকে ঘরের ভেতর ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে দেখা যায়, সে আর বেঁচে নেই।’

 

প্রতিবেশী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘টুটুল এমনিতেই খুব ভদ্র ছেলে। গ্রামের কারও সঙ্গে কখনো খারাপ আচরণ করেনি। তবে গত বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। এ বছরও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন তাকে কিছুটা বকাঝকা করেছিলেন। এরপর সে অভিমান করে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছি।’

 

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমারীডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই মহাসিন আলী বলেন, ‘আমাদের পুলিশ ক্যাম্পের কাছেই কোদাইলকাটি পশ্চিম পাড়ায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেবেন।’

এসএসসিতে ইংরেজিতে দুবার ফেল, বকাঝকার পর সকালে মিলল শিক্ষার্থীর লা/শ

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় মামলা করা হবে। আদালত নিজেই এ মামলার বাদী হয়েছেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, খাদিজা সুলতানা শিমু মামলার বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের বিভিন্ন ধারায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

 

তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ফলে ওই কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ওমর ফারুক আগে শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন লিংক উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদনও করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

 

পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেয়া হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিবেচনায় আদালত নিজেই বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

 

তদন্তে যা উঠে এসেছে পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ড, ডিজিটাল আলামত, ফেসবুক লিংক ও ফরেনসিক তথ্য যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

তদন্তে আরও উঠে আসে, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে ওমর ফারুক আদালতে পৃথক মামলা করেন। এরপর সেই মামলার দায় থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই শিমু পর্নোগ্রাফি আইনে অভিযোগ দায়ের করেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

ওমর ফারুকের আগের মামলা গত ২০ জুলাই ওমর ফারুক চৌধুরী শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার আদালতে মামলা করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

 

সেই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালে ফেসবুকে পরিচয়ের পর শিমু তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে টাকা নেন। জন্মদিনে দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি হীরার আংটিসহ বিয়ের খরচের জন্য মোট ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৫১১ টাকা নেয়ার পরও বিয়ে না করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়।

পর্নোগ্রাফি আইনে কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ আদালতের

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d